অর্থনীতি ধীর হওয়ার শঙ্কা, সুদহার কমানো নিয়ে দোটানায় ফেড

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির কারণে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় নিয়োগ ও খরচ কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) শীর্ষ এক কর্মকর্তা।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির কারণে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় নিয়োগ ও খরচ কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) শীর্ষ এক কর্মকর্তা। এতে অর্থনীতি মন্থর হয়ে যেতে পারে। তবে এ অবস্থায় সুদহার কমানো হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি। খবর এপি।

রিচমন্ড ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট টম বারকিন ভার্জিনিয়ার লাউডাউন কাউন্টির চেম্বার অব কমার্সের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে তারা বড়সড় ছাঁটাই না করলেও নতুন লোক নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছেন ও অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাচ্ছেন। এটা কুয়াশার মধ্যে গাড়ি চালানোর মতো পরিস্থিতি। আপনাকে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে।’

ফেড কর্মকর্তারা এখন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ শুল্ক বৃদ্ধি একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে, ফলে সুদহার বেশি রাখতে হতে পারে। অন্যদিকে যদি এতে অর্থনীতি দুর্বল হয়, তাহলে হয়তো সুদহার কমাতে হতে পারে।

ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘‌মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব উভয়েরই ঝুঁকি বাড়ছে। সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সুদহার অপরিবর্তিত থাকবে।’

তবে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সুদহার কমানোর জন্য ফেডের ওপর চাপ দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন ২০২২ ও ২০২৩ সালের মতো যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ মূল্যস্ফীতির শিকার নয়, ফলে ফেড দ্রুত সুদহার বাড়িয়ে দিয়েছিল।

অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, যদি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায় খরচ ও বেকারত্ব বাড়ে, তাহলে অর্থনীতিতে তীব্র মন্দা দেখা দিতে পারে। তাই অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে ফেডকে সুদহার কমাতে হতে পারে।

ইওয়াই নামক একটি কনসাল্টিং ফার্মের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ড্যাকো মনে করেন, ফেডের শিগগিরই সুদহার কমানো উচিত। কারণ অর্থনীতির গতি কমছে, এটি কমতেই থাকবে। কমে হয়তো মন্দার কাছাকাছি চলে যাবে।

তবে ফেডের জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির জন্য কোনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মূল্যস্ফীতি নাকি বেকারত্ব তা নির্ধারণ করা।

তিনি আরো বলেন, ‘‌এ মুহূর্তে একটিকে অন্যটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলাটা এক ধরনের অনুমান ছাড়া আর কিছুই না।’

অন্যান্য ফেড কর্মকর্তাও বারকিনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।

ফেড ওয়াশিংটনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মাইকেল বার বলেন, ‘‌শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফলে ফেড হয়তো সুদহার কমাবে না।’

তবে বারকিন বলেন, ‘ক্রেতারা উচ্চমূল্যের পণ্য কিনতে রাজি না হলে ব্যবসায়ীদেরই শুল্কজনিত অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘‌দাম বাড়ানো সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন।’

আরও